হোস্টিং কি? কত প্রকার ও কেন প্রয়োজন হয়। সকল হোস্টিং বিস্তারিত

ওয়েবসাইট তৈরি করতে ডোমেইন হোস্টিং সম্পর্কে স্পষ্ট জ্ঞান থাকা খুবই প্রয়োজন। আমারা এই পোষ্টে হোস্টিং কি, কত প্রকার, কেন প্রয়োজন ও এই বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

তবে আপনি ডোমেইন সম্পর্কে না জানলে আমাদের ডোমেইন নেম কি, কত প্রকার এই পোস্টটি অবশ্যই পড়বেন।

কেননা ওয়েবসাইট তৈরি করতে ডোমেইন সম্পর্কে আপনাকে ভাল ধারণা রাখতে হবে। তাছাড়া পোষ্টটি পড়লে হোস্টিং সম্পর্কে বোঝা আপনার জন্য আরও সহজ হবে।

হোস্টিং কি? (What is Hosting)

হোস্টিং কি

হোস্টিং কি? খুব সহজ ভাষায় বললে হোস্টিং (Hosting) বলতে একটি ওয়েবসাইটের বিভিন্ন ফাইল যে জায়গা বা স্পেসে রাখা হয় তাকে বোঝায়।

যেমন আমারা ফোনের মেমরিতে বিভিন্ন অডিও (Audio), ভিডিও (Video) ফাইল রাখি। অডিও ভিডিও ফাইলের মত একটি ওয়েবসাইটেরও বিভিন্ন ফাইল থাকে।

যেমন পরিচিত ফাইলের মধ্যে রয়েছে এইচটিএমএল (HTML), সিএসএস (CSS), জাভাস্ক্রিপ্ট (Javascript), পিএইচপি (PHP) ইত্যাদি ফাইল।

মোবাইলে আমার যাখন কোনো ভিডিও এর উপর ক্লিক করি তাখন তা আমাদের ফোনের স্টোরেজ বা মেমরি থেকে চলতে থাকে।

ঠিক তেমনিভাবে যখন কেউ কোনো ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস (Address) দিয়ে ব্রাউজারে প্রবেশ করে তখন তা হোস্টিং থেকে লোড হয় বা চলতে থাকে।

মেমরির মত হোস্টিং এর স্টোরেজেরও লিমিট থাকে। যেমন ১ জিবি, ৫ জিবি, ১০ জিবি স্টোরেজের হোস্টিং।

তবে মনে রখাবেন এই হোস্টিং সার্ভার সমূহ এক ধরনের বিশেষ কম্পিউটার যা সব সময় ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকে। একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হলে অবশ্যই হোস্টিং প্রয়োজন হবে।

হোস্টিং কত প্রকার

হোস্টিং কত প্রকার

হোস্টিং কি এই বিষয়ে আপনি হয়ত ধারণা পেয়ে গেছেন। কিন্তু হোস্টিং কত প্রকার এটার আসলে প্রকৃত কোনো শ্রেনী বিভাগ নেই।

তবে হোস্টিং সার্ভারের উপর নির্ভর করে হোস্টিংকে বিভিন্ন প্রকারে ভাগ করা হয়। চলুন দেখা যাক বিভিন্ন ধরনের হোস্টিং।

  • Shared Hosting (শেয়ার হোস্টিং)
  • Reseller Hosting (রিসেলার হোস্টিং)
  • WordPress Hosting (ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং)
  • VPS Hosting (ভিপিএস হোস্টিং)
  • Dedicated Hosting (ডেডিকেটেড হোস্টিং)
  • Cloud Hosting (ক্লাউড হোস্টিং)

এখন আমরা সকল হোস্টিং নিয়ে আলোচনা করব। বিভিন্ন প্রকার হোস্টিং সম্পর্কে জানতে নিচের অংশ পড়ুন।

শেয়ার হোস্টিং কি (What is Shared Hosting)

শেয়ার হোস্টিং কি

“হোস্টিং কি” অনুচ্ছেদে আমি আগেই বলেছিলাম হোস্টিং সার্ভার এক ধরনের কম্পিউটার যা ইন্টারনেটের সাথে সব সময় যুক্ত থাকে।

সাধারণত একটি সার্ভারের স্টোরেজ বা মেমরি অনেক বড় হয়। মনে করেন আপনি যেই কোম্পানি থেকে হোস্টিং কিনতে যাচ্ছেন তাদের একটি সার্ভারের স্টোরেজ 480GB বা 1TB ।

কিন্ত একটি সাধারণ ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য 1GB হোস্টিং স্টোরেজই যতেষ্ট। তাই আপনি নিশ্চয় অতিরক্ত খরচ দিয়ে বিশাল পরিমাণের হোস্টিং কিনতে চাইবেন না।

তাই হোস্টিং কোম্পানি গুলো একই সার্ভারের আওতায় বিভিন্ন ছোট ছোট সাইজের হোস্টিং অফার করে। যা ইউজারদের একে ওপরের সাথে শেয়ার করে ব্যবহার করতে হয়।

যেমন মনে করেন উপরের 480GB সার্ভারটি 5GB করে ৯৬ জন ব্যবহার করছে। বিষয়টা অনেকটা হোস্টেল মেম্বারদের মত।

হোস্টেলের একজন মেম্বারের জন্য একটি ফ্ল্যাটের প্রয়োজন নেই। একজনের জন্য একটি সিটই যতেষ্ট। তাছাড়া এক জনের পক্ষে একটি ফ্ল্যাটের খরচও অনেক।

কিন্ত ফ্ল্যাটে ১০ জন মেম্বার শেয়ার করে থাকলে তাদের খরচ অনেক কমে যায়। শেয়ার হোস্টিং (Shared Hosting) অনেকটা একইরকম। অর্থাৎ শেয়ার হোস্টিং-এ একাধিক ইউজার একাটি সার্ভার ভাগ করে ব্যবহার করে।

শেয়ার হোস্টিং এর সুবিধা
  • ছোট বিজনেস বা ব্লগিং শুরু করার সেরা মাধ্যম।
  • কম দামে ক্রয় করা যায়।
  • সহজ কন্ট্রোল প্যানেল থাকে।
  • তেমন বেশি টেকনিকাল নলেজের প্রয়োজন হয় না।

রিসেলার হোস্টিং কি (What is Reseller Hosting)

রিসেলার হোস্টিং কি

যে শেয়ার হোস্টিং ক্রয় করে আবার একাধিক কাস্টোমারের কাছে বিক্রয় করা যায় তাই রিসেলার হোস্টিং (Reseller Hosting)। অর্থাৎ রিসেলার হোস্টিং অনেকটা শেয়ার হোস্টিং এর মতই।

তবে শেয়ার হোস্টিং এ কন্ট্রোল প্যানেল হিসাবে সিপ্যানেল (Cpanel) থাকে আর রিসেলার হোস্টিং এ থাকে WHM.

অর্থাৎ রিসেলার হোস্টিং এর মাধ্যমে আপনি চাইলে একাধিক শেয়ার হোস্টিং তৈরি করতে পারবেন। আর এইসব হোস্টিং এর ইউজার পাবে আলাদা আলাদা কন্ট্রোল প্যানেল। যা শেয়ার হোস্টিং এ করা যায় না।

একটি উদাহারণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। মনে করুন আপনি কোনো হোস্টিং প্রোভাইডার কোম্পানি থেকে 50GB রিসেলার হোস্টিং ক্রয় করেছেন।

এখন আপনি চাইলে নিজের মত করে প্যাকেজ সাজিয়ে কাস্টোমাদের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। যেমনঃ 1GB করে ৫০টা প্যাকেজ তৈরি করা যাবে।

৫০ টি প্যাকেজের কন্ট্রোল প্যানেল আলাদা হবে। যেগুলো আপনি অ্যাডমিন হিসাবে মেনেজ করতে পারেন।

রিসেলার হোস্টিং এর সুবিধা
  • গ্রুপ অয়াইজ ব্যবহার করা যায়।
  • পুনরায় সেল করা যায়।
  • সেয়ার্ড হোস্টিং এর মত এটিরও দাম কম।
  • নিজের খুশি মত প্যান বা প্যাকেজ তৈরি করা যায়।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং কি (What is WordPress Hosting)

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং কি

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং (WordPress Hosting) হচ্ছে এক ধরনের শেয়ার হোস্টিং যা মূলত ওয়ার্ডপ্রেস। ওয়েবসাইটের জন্য ব্যবহৃত হয়। এখন অনেকের মনে প্রশ্ন হতে পারে ওয়ার্ডপ্রেস কি?

ওয়ার্ডপ্রেস হচ্ছে একটি টুল বা সফটওয়্যার যেটির মাধ্যমে খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। এই দারুণ টুলটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানে পড়ুন ওয়ার্ডপ্রেস কি ও কিভাবে ফ্রিতে শিখবেন

ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য এটি বেশ জনপ্রিয়। তাই হোস্টিং কোম্পানি সমূহ ওয়ার্ডপ্রেস ফ্রেন্ডলি হোস্টিং অফার করে থাকে। যাকে ওয়ার্ডপ্রেস হোসিং বলা হয়।

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য বিশেষভাবে অপ্টিমাইজ করা হয়ে থাকে। যাতে করে উক্ত ওয়ার্ডপ্রেস সাইটি দ্রুত লোড হয় এবং ভাল পার্ফমেন্স দেয়।

সুতরাং আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইটে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করতে চান তাহলে এই প্রকার হোস্টিং ভাল হবে। এখানে দেখুন কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন

ওয়ার্ডপ্রেস হোস্টিং এর সুবিধা
  • ওয়ার্ডপ্রেস সাইটের জন্য সেরা।
  • ওয়ান ক্লিক ওয়ার্ডপ্রেস ইনস্টেলেশন।
  • ওয়ার্ডপ্রেস এর জন্য ভাল পার্ফমেন্স।
  • ভাল মানের ওয়ার্ডপ্রেসের টেকনিকাল সাপোর্ট।

ভিপিএস হোস্টিং কি (What is VPS Hosting)

ভিপিএস হোস্টিং কি

ভিপিএস (VPS) এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Virtual Private Server (ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার)।

শেয়ার হোস্টিং মত ভিপিএস হোস্টিং ব্যবহারকারীরা ভাগ করে ব্যবহার করলেও এটি একটি বিশেষ সার্ভার। কেননা ভিপিএস হোস্টিং-এ ইউজারদের জন্য সুনির্দিষ্ট একটি পার্টিশনে স্টোরেজ ভাগ করা থাকে।

মনে করুন আপনার কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক একটি সার্ভার। প্রত্যেক হার্ড ডিস্কের মত এখানেও আলাদা কিছু ফোল্ডার (Folder) আছে। যেমন E, F, G ইত্যাদি ফোল্ডার।

ভিপিএস হোস্টিং (VPS Hosting) এ ঠিক একইভাবে ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা আলাদা স্পেস থাকে। অনেকটা কম্পিউটার ফোল্ডারের মত।

মানে VPS হোস্টিং এ একটি সার্ভারে ইউজারদের জন্য ডেডিকেটেট স্পেস বা মেমরি বরাদ্দ থাকে। যা শেয়ার হোস্টিং এ থাকে না।

ভিপিএস হোস্টিং এর সুবিধা
  • নির্দিষ্ট সার্ভার স্পেস থাকে।
  • উপরের হোস্টিং গুলো থেকে ভাল পার্ফমেন্স পাওয়া যায়।
  • সাইট লোডিং এ কোনো ইফেক্ট পড়ে না।

ডেডিকেটেড হোস্টিং কি (What is Dedicated Hosting)

ডেডিকেটেড হোস্টিং কি

একজন ইউজারের জন্য সম্পূর্ণ একটি সার্ভার বরাদ্দ থাকবে তাই হলো ডেডিকেটেড হোস্টিং (Dedicated Hosting)।

অর্থাৎ আমারা আগে জেনেছি যে একটি সার্ভারের স্টোরেজ 1TB হলে শেয়ার্ড বা রিসেলার হোস্টিং তা ভাগ করে ইউজারদের ব্যবহার করতে হতো।

কিন্তু ডেডিকেটেড হোস্টিং এর মানে হলো একজন ইউজার ঐ 1TB সে নিজে একাই ব্যবহার করবে। কারো সাথে স্টোরজে বা সার্ভার শেয়ার করবে না।

এই ধরনের হোস্টিং-এ ভাল মানের সার্ভিস পাওয়া যায়। উপরের যে কোনো হোস্টিং থেকে ডেডিকেটেড হোস্টিং ফাস্ট ও সিকিউর (Secure)।

তবে মনে রাখতে হবে ডেডিকেটেড হোস্টিং এর দামও বেশি। এটি নতুন কিংবা সাধারণ ওয়েবসাইটের জন্য না। তবে প্রচুর ট্রাফিক আছে ও বেশি স্টোরেজ প্রয়োজন এমন সাইটের জন্য তা বেস্ট হতে পারে।

ডেডিকেটেড হোস্টিং এর সুবিধা
  • একটি ডেডিকেটেট সার্ভার পাওয়া যায়।
  • ভিপিএস থেকে ও ভাল স্পিড ও সিকিউর।
  • সার্ভবারের সম্পূর্ণ কন্ট্রোল পাওয়া যায়।

ক্লাউড হোস্টিং কি (What is Cloud Hosting)

ক্লাউড হোস্টিং কি

ক্লাউড হোস্টিং (Cloud Hosting) হলো একাধিক কম্পিউটার সার্ভারের সম্বনয়ে গঠিত একটি হোস্টিং সার্ভার। অর্থাৎ এই হোস্টিং-এ অনেকগুলো সার্ভার এক সাথে কানেক্টেট থাকে।

আর এই হোস্টিং এ ওয়েবসাইটের যাবতীয় ফাইল বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন সার্ভারে রাখা হয়। যার ফলে ক্লাউড হোস্টিং এ একটি সাইট ডাউন হওয়ার সম্ভবনা একেবারে নেই বললেই।

তাছাড়া এই হোস্টিং বেশি সিকিউর হয়ে থাকে। তাই দিন দিন ক্লাউড হোস্টিং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

অনেকেই তাদের ওয়েবসাইটের জন্য ক্লাউড হোস্টিং চেছে নেয়। কেননা অন্যন্য হোস্টিং এর তুলনায় এটির দামও বেশ কম।

নতুন, এক্সপার্ট সাবার জন্যই ক্লাউড হোস্টিং সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে। তাছাড়া এটি যে কারো জন্যই সেরা একটি হোস্টিং মাধ্যম হতে পারে।

ক্লাউড হোস্টিং সুবিধা
  • সাইট ডাউন হওয়ার সম্ভবনা প্রায় নেই।
  • হাই সিকিউরিটি হোস্টিং।
  • অন্যন্য হোস্টিং এর তুলনায় ভাল পার্ফমেন্স।
  • ছোট বড় প্রায় সকল প্যাজেক পাওয়া যায়।

ডোমেইন হোস্টিং দিয়ে সহজে ওয়েবসাইট খোলার নিয়ম দেখুন এখানে

শেষ কথা

আশা করি আমি আপানাদের হোস্টিং কি? কত প্রকার ও কেন তা প্রয়োজন তা বোঝাতে পেরেছি। হোস্টিং ক্রয়ে আমরা অনেকে ভুল করে থাকি।

সব সময় ভাল কোম্পানি থেকে হোস্টিং ক্রয় করা উচিত। আর হ্যাঁ আপনি যদি এই রিলেটেড বিষয় সম্পর্কে জনতে চান তাহলে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মত ভিজিট করুন।

প্রয়োজন হলে কিংবা কিছু জানতে চাইলে নিচে কমেন্ট করতে ভুলবেন না।

Leave a Reply