ডোমেইন নেম কি? কত প্রকার এবং কেন ব্যবহার করা হয়

আপনি ওয়েবসাইট তৈরি করতে আগ্রহী হলে “ডোমেইন নেম (Domain Name)” শব্দ দুটি শুনে থাকবেন। এই পোস্টে আমরা ডোমেইন নেম কি, কত প্রকার এবং ব্যবহার করা হয় তা বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

ডোমেইন নেম কি? (What is Domain Name)

ডোমেইন নেম কি

ডোমেইন নেম কি? সহজ ভাষায় ডোমেইন নেম বলতে কোনো ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেসকে বোঝায়। যেমনঃ facebook.com বা youtube.com ইত্যাদি।

অর্থাৎ এখানে facebook.com একাটি ডোমেইন নেম। মনে রাখবেন প্রতিটি ওয়েবসাইটের ডোমেইন নেম সব সময় আলাদা হয়ে থাকে।

ডোমেইন নেম সম্পর্কে আরও জানতে হলে আমাদের আইপি অ্যাড্রেস (IP Address) কি তা বোঝতে হবে। কেননা এই বিষয়ের সাথে আইপি অ্যাড্রেসের বেশ সম্পর্ক রয়েছে।

আইপি অ্যাড্রেস হলো কয়েকটি নাম্বারের ক্রম বা সিরিজ (Series)। যা একটি কম্পিউটার বা ডিভাইসকে (Device) শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।

যেমনঃ 208.65.153.238 একটি আইপি অ্যাড্রেস এর উদাহরণ। আপনি চাইলে আপনার ডিভাইসের আইপি অ্যাড্রেস দেখতে পারেন।

What is my ip লিখে গুগলে সার্স করলে আপনি আপনার ডিভাইসের আইপি অ্যাড্রেস দেখতে পারবেন।

ইন্টারনেটে সংযুক্ত প্রতিটি কম্পিউটারের (Computer) এর আইপি অ্যাড্রেস আমাদের মোবাইল নাম্বারের মতই আলাদা। কিন্তু একবার ভাবুন। মোবাইল নাম্বারের মত আইপি অ্যাড্রেসের নাম্বার গুলোও মনে রাখা কঠিন।

আমরা কত ওয়েবসাইট ভিজিট করি। এসব ওয়েবসাইটের আইপি অ্যাড্রেস মনে রেখে ভিজিট করতে আমাদের খুব কষ্ট হতো।

এই বিষয়টা সমাধান করতেই ডোমেইন নেমের উদ্ভব হয়। যার ফলে আমারা খুব সহজেই একটি সাইটের নাম লিখে উক্ত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারি।

ডোমেইন নেমের সাথে হোস্টিং এর বেশ সম্পর্ক রয়েছে। এখানে জানুন হোস্টিং কি, কত প্রকার এবং কেন প্রয়োজন হয়

ডোমেইনের বিভিন্ন অংশ

একটি ডোমেইনের বিভিন্ন অংশ থাকে। যেমনঃ ডোমেইন এক্সটেনশন (Domain Extension), সাব ডোমেইন (Sub Domain) ইত্যাদি। আমরা নিচে সকল অংশ নিয়ে আলোচনা করব।

ডোমেইন এক্সটেনশন (Domain Extension)

একটি ডোমেইনের ডট (.) এর পরের অংশকে ডোমেইন এক্সটেনশন বলে। যেমনঃ এখানে .com হলো ডোমেইন এক্সটেনশন।

বিভিন্ন অংশ

আবার ডোমেইন এক্সটেনশনকে ক্ষেত্র বিশেষে টপ লেভেল ডোমেইনও বলা হয়। এই বিষয়ে আমরা নিচের অংশে জানব।

ডোমেইন নেম (Domain Name)

একটি ডোমেইনের ডট (.) এর আগের অংশটিকে সেই ডোমেইনের নাম বলা হয়ে থাকে। যেমন ফেসবুকের জন্য facebook.

ডোমেইন নেম ক্রয়ের সময় নিজের ইচ্ছা মত নাম দিয়ে ডোমেইন কিনা যায়। তবে উক্ত নামটি অবশ্যই এভেইলেবল (Available) থাকে হবে।

রুট ডোমেইন (Root Domain)

ডোমেইনের নাম ও এক্সটেনশন নিয়ে গঠিত অংশকে রুট ডোমেইন বলা হয়। সাধারণত রুট ডোমেইন একটি ওয়েবসাইটের হোমপেজ হিসাবে থাকে।

একটি রুট ডোমেইনের আওতায় একাধিক সাব ডোমেইন তৈরি করা যায়। চলুন দেখা যাক সাব ডোমেইন কি।

সাব ডোমেইন (Sub Domain)

সাব ডোমেইন হল মূল বা রুট ডোমেইনের একটি শাখা ডোমেইন। যেমন এখানে রুট ডোমেইনের আগে রয়েছে। তাই এটি একটি সাব ডোমেইন।

তবে মনে রাখা ভাল যে সাব ডোমেইন রুট ডোমেইনের আগেও হতে পারবে এবং পরেও হতে পারে। রুট ডোমেইনের আওটায় হলেও এটি একটি স্বাধীন ডোমেইন।

ডোমেইন নেম কত প্রকার?

ডোমেইন নেম কত প্রকার

ইন্টারনেটে বিভিন্ন ধরনের ডোমেইন নেম রয়েছে। যেমনঃ টপ লেভেল ডোমেইন, সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন ইত্যাদি।

এই ডোমেইন গুলো সাধারণত এক্সটেনশনের উপর ভৃত্তি করে ভাগ করা হয়। নিচে ৪ প্রকার ডোমেইন নেম নিয়ে আলোচনা করা হলো।

TLD: Top Level Domain (টপ লেভেল ডোমেইন)

টপ লেভেল ডোমেইন বলতে ডোমেইনের এক্সটেনশন .com/.net/.org/info থাকবে এমনটাই বোঝায়। বেশির ভাগ ওয়েবসাইট টপ লেভেল ডোমেইন গুলোই ব্যবহার করে।

মনে রাখবেন প্রফেশনাল কাজের জন্য টপ লেভেল ডোমেইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক ফ্রি ডোমেইন পাওয়া যায়। যেমনঃ .me/.tk/.ml/.cf ইত্যাদি। এগুলো শিখা বা টেস্টের উদ্দেশ্য ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে কোনো প্রফেশনাল কাজের জন্য কখনোই না। চেষ্টা করবেন সব সময় .com ডোমেইন নিতে। না পেলে বাকি টপ লেভেল ডোমেইন ট্রাই করবেন।

ccTLD: Country Code Top Level Domain (কাউন্টি কোড টপ লেভেল ডোমেইন)

কাউন্টি কোড টপ লেভেল ডোমেইন দুটি মাত্র অক্ষর বা কোড ব্যাবহার করে কোনো দেশকে বোঝায়। আপনি হয়ত .bd ডোমেইন আছে এমন কোনো ওয়বেসাইটে ভিজিট করে থাকবেন।

.bd দ্বারা আমাদের বাংলাদেশকে বোঝানো হয়। একইভাবে প্রায় প্রতিটি দেশের জন্য কাউন্টি কোড টপ লেভেল ডোমেইন রয়েছে। যেমনঃ যুক্ত রাষ্ট্রের জন্য us, কানাড়ার জন্য ca, চাইনার জন্য cn.

gTLD: Generic Top Level Domain (জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন)

এই ডোমেইনটি নিদির্ষ্ট কোনো শ্রেণীকে বা প্রতিষ্ঠানকে বোঝায়। উদাহরণ সরূপ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বোঝাতে .edu ব্যবহার করা হয়।

বহুল ব্যবহৃত জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন সমূহ যথাক্রমে .gov (Government), mil (Military), .ac (Academic) ইত্যাদি। এই ডোমেইন গুলোকে sTLD বা স্পন্সর টপ লেভেল ডোমেইনও (Sponsored Top Level Domain) বলা হয়।

Second Level Domains (সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন)

আপনি হয়ত এমন কোনো ওয়েবসাইট ভিজিট করে থাকবেন যার অ্যাড্রেসে .com.bd ছিল। এখানে .com টপ লেভেল ডোমেইন এবং .bd কাউন্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন।

অর্থাৎ যে ডোমেইনে টপ লেভেল বা জেনেরিক টপ লেভেল ডোমেইন ও কাউন্ট্রি কোড টপ লেভেল ডোমেইন একসাথে থাকে তাকে সেকেন্ড লেভেল ডোমেইন বলে। যেমনঃ .gov.uk/.com.bd/.co.in/.co.us ইত্যাদি। একটি দেশের কোনো ওয়েবসাইটের জন্য এটাই বেস্ট ডোমেইন

ডোমেইন নেম কেন ব্যবহার করা হয়?

ডোমেইন নেম কেন ব্যবহার করা হয়

সাধারণত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে ডোমেইন নেম ব্যবহার করা হয়। যা হবে উক্ত ওয়েবসাইটের ঠিকানা।

ওয়েবসাইটের ঠিকানা ছাড়া অর্থাৎ ডোমেইন ব্যতীত কোনো একটি ওয়েবসাইট পাবলিশ করা অসম্ভব।

ডোমেইন নেমের আরেকটি বহুল ব্যবহৃত বিষয় হচ্ছে নিজের নাম বা ব্রন্ডের নামে বিজনেস ইমেইল তৈরি করা। এটিকে আবার প্রফেশনাল ইমেলও বলা হয়ে থাকে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে ব্যবহৃত ইমেইল মাধ্যম হচ্ছে গুগলের জিমেইল (Gmail)। কিন্তু এটি সবাই ব্যবহার করে। তাছাড়া নিজের নাম বা বিজনেসের সাথে মিল রেখে প্রফেশনাল টাইপের ইমেল এখানে তৈরি করা যায় না।

কিন্ত আপনার একটি ডোমেইন থাকলে যে কোনো নাম দিয়ে ইমেইল তৈরি করতে পারবেন। যা প্রফেশনাল কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

যেমন আমাদের ইমেল হচ্ছে [email protected] এখানে mdyasinsd.com আমাদের ডোমেইন নেম। যেটির আগে admin নাম দিয়ে আমরা উক্ত ইমেলটি তৈরি করেছি।

ডোমেইন নেম এর দাম ও কিভাবে কিনবেন

ডোমেইন নেম এর দাম

সাধারণত সারা বিশ্বে ডোমেইন নেম এর দাম ১০ থেকে ২৫ ডলারের মধ্যে হয়ে থাকে। তবে প্রয়োজনীয় ডোমেন সমূহ যেমন .com/.net/.org/.info এই ডোমেইন গুলো ১০ থেকে ১২ ডলারের মধ্যেই পাওয়া যায়।

আমাদের বাংলাদেশের ডোমেইন কোম্পানি গুলো থেকে প্রয়োজনীয় ডোমেন সমূহ ৯০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। দেশের প্রাতিষ্ঠান থেকে ডোমেইন নেম কিনলে আপনার কোনো ডুয়েল কারেন্সি কার্ড না থাকলেও চলবে।

বিকাশের, রকেট কিংবা যে কোনো দেশীয় পেমেন্টের মাধ্যমে খুব সহজেই তাদের কাছ থেকে ডোমেইন হোস্টিং ক্রয় করা যায়।

তবে একই কোম্পানি থেকে ডোমেইন হোস্টিং নিলে দাম একটু কম পরবে। সব সময় ভাল কম্পানি গুলো থেকে ডোমাইন হোস্টিং কিনবেন।

নইলে আপনি প্রতারিত হতে পারেন কিংবা আপনার ওয়েবসাইট স্লো (Slow) হতে পারে। এখান থেকে দেখে আসুন বাংলাদেশের সেরা ডোমেইন হোস্টিং কোম্পানি সমূহ

ডোমেইন কিনতে ফেসবুকের মত প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এসব সাইটে একাউন্ট খোলা খুবই সহজ। আপনি চাইলে আগে প্যাক পছন্দ করে তারপর তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।

আপনার ডোমেইন মেনেজ করতে আপনাকে ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড দেওয়া হবে। এগুলো পরবর্তিতে ওয়েবসাইট তৈরি করতে বেশ প্রয়োজন হবে। তাই ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড গোপন ও সংরক্ষণ করে রাখবেন।

মনে রাখবেন ডোমেইন হোস্টিং এর মধ্যে সম্পর্ক থাকেলেও দুটি বিষয় সম্পূর্ণ আলাদা। আর আপনি চাইলে দুটি আলাদা আলাদা কিনতে পারেন। এমনকি ভিন্ন ভিন্ন কোম্পানি থেকেও।

কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং এর মধ্যমে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হয় জানতে দেখুন আমাদের অন্য একটি পোস্ট কিভাবে ওয়েবসাইট বানানো যায়?

শেষ কথা

আশা করি আপনারা ডোমেইন নেম কি তা বোঝতে পেরেছেন। আমরা এই জাতীয় বিষয় নিয়ে পোস্ট করে থাকি। তাই বিভিন্ন বিষয় শিখতে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।

Leave a Reply